পদ্মাবতী সিনেমার “ঘুমর” গানের লেহেঙ্গার ওজন ছিল ৩০ কেজি – এক অবিশ্বাস্য কাহিনী

পদ্মাবতী সিনেমার “ঘুমর” গানের লেহেঙ্গার ওজন ছিল ৩০ কেজি – এক অবিশ্বাস্য কাহিনী: বলিউড সিনেমা “পদ্মাবত” ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়ার পরপরই দর্শক মহলে এক চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। এই সিনেমা শুধু তার গল্প বা অভিনয়ের জন্যই নয়, বরং এর অসাধারণ সাজগোজ এবং চিত্রকলা শৈলীর জন্যও প্রশংসিত হয়েছিল। বিশেষত, দীপিকা পাড়ুকোনের চরিত্র ‘পদ্মাবতী’র ঘুমর গানের দৃশ্যটি সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায়। দীপিকার এই গানের মধ্যে যে লেহেঙ্গা পরিধান করা হয়েছিল, তার এক অদ্ভুত এবং অবিশ্বাস্য বিশেষত্ব ছিল—ওজন। এই লেহেঙ্গার ওজন ছিল প্রায় ৩০ কেজি!

কিন্তু কীভাবে এমন একটি ভারী লেহেঙ্গা পরা সম্ভব? দীপিকার অসাধারণ দক্ষতা, পরিশ্রম, এবং ফ্যাশন ডিজাইনারদের অদ্বিতীয় প্রতিভার সমন্বয়ে এই পোশাক তৈরি হয়েছিল।

“ঘুমর” গানটির শুটিংয়ের সময় দীপিকা কীভাবে এই ভারী লেহেঙ্গা পরিধান করতেন এবং এটি পরিধান করা কোনো সহজ কাজ ছিল না, সে সম্পর্কে জানলে রীতিমতো চমকে উঠবেন। আসুন, বিস্তারিতভাবে জানি এই পোশাকের অদ্ভুত বিশেষত্ব এবং এর পিছনের গল্প।

১. লেহেঙ্গার ডিজাইন এবং কৌশল

পদ্মাবতী সিনেমার "ঘুমর" গানের লেহেঙ্গার ওজন ছিল ৩০ কেজি – এক অবিশ্বাস্য কাহিনী

“ঘুমর” গানের জন্য দীপিকা পাড়ুকোন যে লেহেঙ্গাটি পরেছিলেন, তা ছিল একটি অসাধারণ ডিজাইনের ফল। এই লেহেঙ্গার ডিজাইন করেছিলেন বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার সাব্যসাচি মুখার্জি, যিনি তার মেক-অভার এবং বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের জন্য বিখ্যাত।

সাব্যসাচির ডিজাইনে পোশাকগুলোর সঠিক সমন্বয় এবং ঐতিহ্যগত শৈলী সঠিকভাবে মেলানো হয়ে থাকে। তার ডিজাইন করা লেহেঙ্গাটি ছিল শাহী রানি পদ্মাবতীর ঐতিহ্য এবং রাজস্থানের সংস্কৃতির প্রতীক। লেহেঙ্গার রঙ ছিল উজ্জ্বল লাল এবং সোনালী, যা রাজস্থানি শখ এবং বিলাসিতাকে প্রতিফলিত করে।

তবে, এই লেহেঙ্গার সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল এর ভারী জরি কাজ, সিকুয়েন্স এবং অন্যান্য অলঙ্করণ। লেহেঙ্গা তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছিল চিরকালীন কাজ, এমনকি এর নকশা তৈরি করতে বহু মাস সময় লেগেছিল। ভারী সুতির জরি, রঙ্গিন রূপালী সিকুয়েন্স এবং সোনালি সুতির কাজের ফলে লেহেঙ্গার ওজন ছিল প্রায় ৩০ কেজি। একেবারে রাজকীয় অঙ্গভঙ্গি, যা কেবল মাত্র ঐতিহাসিক গল্পেই দেখা যায়।

২. শুটিংয়ের জন্য প্রস্তুতি

এমন ভারী পোশাক পরা যে কোনো অভিনেত্রীর জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হতে পারে, তবে দীপিকা পাড়ুকোনের জন্য এটি ছিল একটি বিশাল অর্জন। তার কাছে পোশাকটি পরিধান করা ছিল কঠিন, তবে তার নিষ্ঠা এবং দক্ষতা তাকে সহজভাবে কাজটি সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে। প্রতিটি শটের জন্য তাকে সতর্কভাবে প্রস্তুতি নিতে হতো।

এই শুটিংয়ের আগে দীপিকাকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল যাতে এই ভারী পোশাক পরেও তিনি তার নৃত্যশৈলী এবং অভিনয়ের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে পারেন। শুটিংয়ের সময় এই লেহেঙ্গা সঠিকভাবে পরিধান করতে তাকে কয়েক ঘণ্টা সময় দিতে হতো, এবং এটি সম্পূর্ণ করার জন্য সহকারী কস্টিউম ডিজাইনাররা তাকে সাহায্য করতেন। এই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে দীপিকার গহনা, চুড়ি, মুকুটও ছিল ভারী, যা তার চেহারাকে আরও রাজকীয় করে তোলে।

৩. চ্যালেঞ্জ এবং দীপিকার সহনশীলতা

যতই এই লেহেঙ্গা সুন্দর হোক, এটি পরিধান করার জন্য দীপিকাকে ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয়েছিল। শুধু পা টানিয়ে চলাই ছিল না, বরং লেহেঙ্গার ভারী কাপড়ের মধ্যে দৃষ্টি আকর্ষণ এবং নৃত্যশৈলী রক্ষা করা ছিল আরও বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় তিনি অনুভব করতেন যে তিনি একদিকে হেলে পড়তে যাচ্ছেন, কারণ লেহেঙ্গার এত ভারী ওজন তার দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করত। তারপরও, দীপিকার জন্য এক কথায় এটি ছিল এক অসাধারণ কাজের কৃতিত্ব, কারণ তিনি তার অভিনয় দক্ষতা এবং চরিত্রের প্রতি নিজের ভালোবাসাকে এই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছিলেন।

৪. চলচ্চিত্র শিল্পে এটি কী প্রতিফলিত করে?

দীপিকার “ঘুমর” গানের লেহেঙ্গা শুধুমাত্র একটি পোশাক ছিল না, এটি চলচ্চিত্র শিল্পের একটি উল্লেখযোগ্য চিহ্ন। এটি প্রমাণ করেছিল যে সিনেমায় যেকোনো ধরনের পোশাক, স্টাইল অথবা সাজগোজ তার গল্পের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মিশে যেতে পারে। সিনেমার গহনা, পোশাক, এবং অন্যান্য সাজগোজ শুধু চিত্রশিল্পকে নয়, চরিত্রের গভীরতা এবং বাস্তবতার দিকে নিয়ে যায়।

এছাড়া, এই ধরনের পোশাক এবং ডিজাইনগুলি ভারী এবং জটিল হতে পারে, তবে সিনেমার চাহিদা এবং গল্পের প্রয়োজনের মধ্যে তা সম্পূর্ণরূপে একটি অংশ হয়ে ওঠে। দীপিকা এবং সাব্যসাচি এই ধরনের একটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন এবং তা সফলভাবে বাস্তবায়িত করেছিলেন।

উপসংহার

“পদ্মাবত” সিনেমার “ঘুমর” গানের লেহেঙ্গার ৩০ কেজি ওজন ছিল শুধু একটি পোশাকের মাপকাঠি নয়, এটি দীপিকা পাড়ুকোন এবং তার টিমের কঠোর পরিশ্রম এবং একাগ্রতার এক অসাধারণ উদাহরণ। এই লেহেঙ্গার মাধ্যমে তারা আমাদের দেখিয়েছে কীভাবে চলচ্চিত্র শিল্পে অতি বাস্তব এবং অতিরঞ্জিত সাজগোজের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করা যায়। এটি শুধুমাত্র একটি পোশাকের গল্প নয়, বরং সৃষ্টির প্রতি এক গভীর ভালোবাসা এবং সংবেদনশীলতার প্রতিফলন।

Leave a Comment